Feb 24, 2018

নিউইয়র্ক : সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ স¤্রাট। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ‘৫ ফেব্রুয়ারি সোমবার জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ, মার্কিন কংগ্রেস স্টেট ডিপার্টমেন্টে লবিংয়ের পর ৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাতে (বাংলাদেশে ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে) নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে অবস্থান কর্মসূচি’ ঘোষণা করলো যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি।
‘৩ বারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনকে কারাগারে নেয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে অযোগ্য করার ষড়যন্ত্র রুখতে জাতিসংঘের শহর নিউইয়র্ক থেকে সারাবিশ্বে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে উজ্জীবিত প্রবাসীদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন’র হুমকিও দিলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির এ সংবাদ সম্মেলনে জাসাস, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, তারেক পরিষদ, জাতীয়তাবাদি ফোরামের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরাও ছিলেন।
মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ সম্রাট। ৫ বছর আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কোন কমিটির অনুমোদন হাই কমান্ড থেকে না আসায় ৫ খন্ডে বিভক্ত বিএনপির প্রায় সকল নেতাই উদ্বিগ্নচিত্তে হাজির হয়েছিলেন এই সংবাদ সম্মেলনে।
লতিফ সম্রাট অভিযোগ করেন, ‘অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রাখা শেখ হাসিনা ও তার সরকারের আচরণে আমরা সকলেই গভীরভাবে শংকিত যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়নভাবেই বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে রায় প্রদান করা হবে। কিন্তু ফরমায়েসী সে রায় কখনোই প্রবাসীরা মেনে নেবে না। ১/১১ পরবর্তী সময়ের মত আবারো লাগাতার আন্দোলন রচনা করা হবে সারাবিশ্বে।’
এ সংবাদদাতার প্রশ্নের জবাবে লতিফ সম্রাট উল্লেখ করেন, ‘লন্ডনে বসবাসরত তারেক রহমানের নির্দেশ তথা বিএনপির হাই কমান্ডের নির্দেশেই আমরা সরকারের অপশাসন আর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে প্রবাস থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।’
এ সংবাদদাতার অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিচার বিভাগ নিরপেক্ষ থাকবে বলেই আমরা এখনও আশা করছি। তবে বিশেষ কোন মতলবে যদি ফরমায়েসী রায় প্রদান করা হয়, তাহলে কেউই সহ্য করবে না।’
আরেক সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব সোলায়মান ভূইয়া ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘মামলার রায় কী হবে তার আলামত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। শতশত নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সারা বাংলাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকান্ডে আন্তর্জাতিক মিত্ররাও ক্ষুব্ধ সরকারের ওপর।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক গিয়াস আহমেদ বলেন, ‘শেখ হাসিনা আবারো একতরফা নির্বাচনের মহড়া শুরু করেছেন। বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার মতলবেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হয়েছে। এভাবেই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের টুটি চেপে ধরেছে বাকশালের পথে হাঁটা শেখ হাসিনা ও তার সাগরেদরা।’
সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং তারেক পরিষদ আন্তর্জাতিক কমিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন আকতার হোসেন বাদল বলেন, ‘সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি আদায়েও আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক বন্ধুদের বাংলাদেশের প্রকৃত পরিস্থিতি অবহিত করতে আমাদের আরো জোরদার ভ’মিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে গ্রেফতারকৃত সকলের মুক্তি দাবি করা হয় এবং দমন-পীড়ন বন্ধের আহবান জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন বিএনপি নেতা কাজী আজম, এম এ বাতিন, মাহফুজুল মাওলা নান্নু, নিয়াজ মোর্শেদ, পারভেজ সাজ্জাদ, আনোয়ারুল ইসলাম, ফারুক হোসেন মজুমদার, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি আলহাজ্ব বাবরউদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্র জাসাসের সভাপতি আলহাজ্ব আবু তাহের, ছাত্রদল সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম জনি প্রমুখ।

 

0 Comments

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য করুন

প্রবাসের আরো খবর কিংবা অন্য যে কোন খবর অথবা লেখালেখি ইত্যাদি খুঁজতে উপরে মেনুতে গিয়ে আপনার কাংখিত অংশে ক্লিক করুন। অথবা ‌উপরেরর মেনু'র সর্বডানে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন এবং আপনার খবর বা লেখার হেডিং এর একটি শব্দ ইউনিকোড ফন্টে টাইপ করে সার্চ আইকনে ক্লিক করুন।
ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন